২০২৫ সাল

মধ্যপ্রাচ্যে পর্যটন খাতে ৪ লাখ কর্মসংস্থানের পূর্বাভাস

চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে নতুন চার লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)।

চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে নতুন চার লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল (ডব্লিউটিটিসি)। এ পূর্বাভাস বাস্তবায়ন হলে অঞ্চলটির খাতটিতে মোট কর্মসংস্থান পৌঁছতে পারে ৭৭ লাখে। খবর দ্য ন্যাশনাল।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সহযোগিতায় সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট রিসার্চ’ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য দিয়েছে ডব্লিউটিটিসি। যেখানে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাতে কর্মসংস্থান ছিল ৭৩ লাখ। সে তুলনায় চলতি বছর কর্মসংস্থান ৫ দশমিক ২ শতাংশ বাড়তে পারে, যা কিনা কডিভ মহামারীর আগের বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ডব্লিউটিটিসির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জুলিয়া সিম্পসন বলেন, ‘মানুষ এখনো ভ্রমণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্য এখন আমাদের দেখা সবচেয়ে সফল অঞ্চলগুলোর একটি হয়ে উঠছে।’

ডব্লিউটিটিসি বলছে, মিসরের গিজার পিরামিড, জর্ডানের পেত্রা এবং দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার মতো পর্যটন আকর্ষণগুলোর কারণে মধ্যপ্রাচ্যের ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের আয় আরো বাড়বে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ অঞ্চলটির অর্থনীতিতে ৩৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের অবদান রাখবে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত, যা এ অঞ্চলের মোট জিডিপির ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থের এ পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ এবং ২০১৯ সালের তুলনায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের ব্যয় বার্ষিক ১২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ডব্লিউটিটিসি। একই সঙ্গে বাড়বে স্থানীয় পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যয়। তাদের ব্যয় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারে।

২০২৫ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের অবদান হবে ১১ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার, যা বৈশ্বিক জিডিপির ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এ বছর আন্তর্জাতিক ভ্রমণে পর্যটকদের ব্যয় পৌঁছতে পারে ২ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলারে। ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মোট ব্যয় ছিল রেকর্ড ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার। চলতি বছর ওই রেকর্ডকে অতিক্রম করতে পারে খাতটি। একই সঙ্গে এ বছর বিশ্বজুড়ে খাতটি থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়ে মোট কর্মসংস্থানের সংখ্যা ৩ কোটি ৭১ লাখে পৌঁছবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

ডব্লিউটিটিসির গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে নতুন মার্কিন শুল্কনীতি ঘোষণার আগে। তাই অনেকে মনে করছিলেন, নতুন শুল্কনীতির প্রভাবে এ পূর্বাভাস প্রভাবিত হতে পারে। তবে ডব্লিউটিটিসির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জুলিয়া সিম্পসন বলছেন, ‘যেসব ভ্রমণ এরই মধ্যে বুকিং দেয়া হয়েছে, আমাদের গবেষণায় সেগুলোর তথ্যই ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে আমাদের পূর্বাভাসে আমূল পরিবর্তন আনার কোনো পরিকল্পনা নেই।’

আরও